আব্দুর রাজ্জাকের ভ্রমন বৃত্তান্ত

মধ্যযুগে ভারতে আগত বৈদেশিক পর্যটকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আবদুর রাজ্জাক। অধিকাংশ ঐতিহাসিক আবদুর রাজ্জাককে "Reluctant Traveller" বা "অনিচ্ছুক ভ্রমনকারী" বলে অভিহিত করেন। আবদুর রাজ্জাক ছিলেন অত্যন্ত ভীতু প্রকৃতির পর্যটক। দীর্ঘ যাত্রাপথের ঝুঁকি নেওয়ার মতো মানসিক বা চারিত্রিক দৃঢ়তা তাঁর ছিলো না। ভারতে আসার পথে রাজ্জাকের ভাইয়ের মৃত্যু হয়। রাজ্জাক নিজেও প্রানের ঝুঁকি নিয়ে ভারত ত্যাগ করেন। এসব কারনে আবদুর রাজ্জাক তাঁর ভ্রমন কাহিনীতে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তিনি আর কখনো সমুদ্রযাত্রা করবেন না। 

পঞ্চদশ শতকে পারস্য সম্রাটের অনুরোধে আবদুর রাজ্জাক ভারত ভ্রমণে আসেন এবং দক্ষিণ ভারতের কালিকট, বিজয়নগর সহ বেশ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করে ফিরে যান। পরবর্তীকালে ভারত ভ্রমনের অভিজ্ঞতাকে তিনি তাঁর "মাতলা - উস - সাদাইন ওয়া মাজমা - উল - বাহরিন" গ্রন্থের একটি পৃথক অধ্যায়ে সংকলিত করেন।

আব্দুর রাজ্জাকের ভ্রমন বৃত্তান্ত
আব্দুর রাজ্জাকের ভ্রমন বৃত্তান্ত 


(১.) আবদুর রাজ্জাকের ভ্রমনকালে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক অবস্থা :-

ইবন বতুতার ভারত ত্যাগের (১৩৪৭ খ্রিঃ) প্রায় ৯৫ বছর পর ১৪৪২ খ্রিঃ পারস্য (বর্তমান ইরান) থেকে ভারত ভ্রমণে আসেন আবদুর রাজ্জাক। ইবন বতুতার ভারত ত্যাগ এবং আবদুর রাজ্জাকের ভারত আগমনের মধ্যবর্তী প্রায় একশত বছরে ভারতের ইতিহাসে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে গিয়েছিলো। 

আমরা জানি, ইবন বতুতা দিল্লির মহম্মদ বিন তুঘলকের রাজত্বকালে ভারতে এসেছিলেন। সেই মহম্মদ বিন তুঘলকের রাজত্বকালেই দক্ষিণ ভারতে সুলতানি সাম্রাজ্যের বিদ্রোহের সুযোগ নিয়ে ১৩৩৬ খ্রিঃ ভবন সঙ্গম নামে এক ব্যক্তির দুই পুত্র হরিহর ও বুক্ক দক্ষিণ ভারতে তুঙ্গভদ্রা নদীর তীরে বিজয়নগর রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন। এই রাজ্য ১৩৩৬ খ্রিঃ থেকে ১৬৭২ খ্রিঃ পর্যন্ত টিকে ছিলো। এই সময়কালে ক্রমান্বয়ে চারটি রাজবংশ বিজয়নগর রাজ্য শাসন করে। এই চারটি রাজবংশ ছিলো যথাক্রমে - সঙ্গম বংশ, সালুভ বংশ, তুলুভ বংশ এবং আরবিডু বংশ। 

বিজয় নগরে সঙ্গম বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ নরপতি ছিলেন দ্বিতীয় দেবরায়। তিনি ১৪২৪ খ্রিঃ থেকে ১৪৪৬ খ্রিঃ পর্যন্ত বিজয়নগর রাজ্য শাসন করেন। দ্বিতীয় দেবরায়ের রাজত্বকালেই আবদুর রাজ্জাক বিজয় নগরে পরিভ্রমনে আসেন এবং সবথেকে বেশিদিন, প্রায় দুই বছর এই রাজ্যেই তিনি অতিবাহিত করেন।

বিজয়নগর রাজ্যের দ্বিতীয় দেবরায় যখন ক্ষমতায় ছিলেন (১৪২৪ - ১৪৪৬) তখন অবশ্য দিল্লিতে আর তুঘলকদের  শাসন ছিলো না। তুঘলক বংশের ফিরোজ তুঘলকের (১৩৫১ - ১৩৮৮) পর বেশ কয়েকজন দুর্বল শাসক দিল্লি শাসন করেন। এইসময়ে ১৩৯৮ খ্রিঃ মধ্য এশিয়া থেকে তৈমুরলঙ্গ ভারত আক্রমন করে সবকিছু তছনছ করে দেন। এর কয়েকবছর পর ১৪১৪ খ্রিঃ তৈমুরলঙ্গ নিযুক্ত মূলতানের শাসক খিজির খাঁ দিল্লি দখল করে সৈয়দ বংশের শাসন শুরু করেন। সৈয়দ বংশের তৃতীয় শাসক ছিলেন মহম্মদ শাহ (১৪৩৪ খ্রিঃ - ১৪৪৫ খ্রিঃ)। দিল্লির সৈয়দ বংশীয় শাসক মহম্মদ শাহের রাজত্বকালেই আবদুর রাজ্জাক ভারত ভ্রমনে আসেন

মুহম্মদ শাহ ছিলেন একজন অপদার্থ শাসক। আবদুর রাজ্জাক ভারতে এসে কখনো দিল্লি সুলতানি যান নি, বা মহম্মদ শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেন নি। আমরা আবদুর রাজ্জাকের ভারত ভ্রমনকালীন সময়ে ভারতবর্ষের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিটি তুলে ধরার জন্যই এই বিষয়টির উল্লেখ করছি। 

মাথায় রাখতে হবে, ভারতে আবদুর রাজ্জাকের ভ্রমন দক্ষিণ ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো। তিনি প্রথমে যান কোঝিকোড় বা কালিকট, পরে সেখান থেকে যান বিজয়নগর রাজ্যেকোঝিকোড় দক্ষিন ভারতে কেরালা রাজ্যের মালাবার উপকূলে অবস্থিত একটি বন্দর ছিলো। প্রাচীনকাল ও মধ্যযুগে কোঝিকোড়কে "মশলার শহর" বলা হতো। চিন, আরব সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বানিজ্যিক জাহাজ গুলি কোঝিকোড়ে এসে পন্য ক্রয় - বিক্রয় করতো। 

মালায়ালামভাষী কোঝিকোড়কে আরব বনিকরা কালিকুট বলে ডাকতো। চিনা বনিকরা বলতো কালিফো। ইংরেজ বনিকরা এই বন্দরকে বলতো ক্যালিকট। কালিকটের রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রথম তথ্য লিপিবদ্ধ করেন মরক্কো থেকে আসা পর্যটক ইবন বতুতা। কালিকটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কোঝিকোড় রাজ্যের রাজধানী ছিলো কালিকট। এই রাজ্যটিকে এরাদি নামক উপজাতি গোষ্ঠীর রাজারা শাসন করতেন। এই রাজাদের উপাধি ছিলো "সামুরি" বা জামোরিন। বানিজ্যিক কারনে পারস্যের তিমুরিদ বংশের শাসক শাহরুখ কালিকটের কথা জানতে পেরে কালিকটের মানুষ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে আবদুর রাজ্জাককে ভারতে দূত হিসাবে প্রেরন করেন।

(২.) আবদুর রাজ্জাকের সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও জীবনী :- 

(i.) জন্ম :- আবদুর রাজ্জাক জন্মগ্রহন করেন ১৪১৩ খ্রিঃ ৭ নভেম্বর, পারস্যের (বর্তমান নাম ইরান) হিরাট শহরে (বর্তমান আফগানিস্তানের অন্তর্গত)।

(ii.) প্রকৃত নাম :- আবদুর রাজ্জাকের প্রকৃত নাম ছিলো কামালউদ্দিন আবদুর রাজ্জাক বিন ইশাক সমরকান্দি

(iii.) পারিবারিক পরিচয় :- আবদুর রাজ্জাকের পিতার নাম ছিলো জালালউদ্দিন ইশাক। তিনি পারস্যের শাসক তিমুরিদ বংশের মির্জা শাহরুখের কাজি ও ইমাম ছিলেন। মির্জা শাহরুখ ছিলেন তৈমুর লঙ্গের চতুর্থ পুত্র। ১৪৩৭ খ্রিঃ ইশাকের মৃত্যুর পর আবদুর রাজ্জাক পারস্য সম্রাট মির্জা শাহরুখের নেক নজরে আসেন। তিনি পিতার স্থলাভিষিক্ত হন এবং সম্রাট তাঁকে নিজের দূত মনোনীত করে ভারতের কালিকটে জামোরিনের রাজদরবারে প্রেরন করেন। প্রশাসন পরিচালনা সংক্রান্ত তথ্যানুসন্ধানের জন্যই তাকে ভারতে দূত হিসাবে প্রেরন করা হয়েছিলো। 

(iv.) তৈমুর লঙ্গ ও তিমুরিদ বংশের পরিচয় :- তৈমুর লঙ্গের প্রকৃত নাম ছিলো তৈমুর বিন তারাগাই বার্লুস। চাখতাই তুর্কি ভাষায় তোমর বা তৈমুর শব্দের অর্থ লোহা। যুদ্ধে একটি পা নষ্ট হয়ে যাওয়ার জন্য তৈমুর "লঙ্গ বা খঞ্জ" নামেই পরিচিত হন।

তৈমুর লঙ্গ ছিলেন চতুর্দশ শতকের একজন দুর্ধর্ষ তুর্কি - মোঙ্গল সেনাধ্যক্ষ। মধ্য এশিয়ার সমরখন্দে ১৩৩৬ খ্রিঃ তৈমুরের জন্ম হয়। তাঁর পিতা আমির তার্ঘি চাখতাই তুর্কি গোষ্ঠীর লোক ছিলেন।পিতার মৃত্যুর পর তৈমুর সিরিয়া, তুর্কিস্থানের বেশ কিছু অঞ্চল, আফগানিস্তান ও ইরান জয় করে তৈমুরীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর কারনেই ইরানে তৈমুরীয় রাজবংশ বা তিমুরিদ রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত হয়। আবদুর রাজ্জাকের পৃষ্ঠপোষক পারস্য বা ইরানের শাসক মির্জা শাহরুখ ছিলেন তৈমুর লঙ্গের চতুর্থ পুত্র

তৈমুর লঙ্গ ১৩৯৮ খ্রিঃ তুঘলক বংশের শেষদিকে ভারত আক্রমণ করেন। তাঁর ভারত আক্রমণের সূত্র ধরেই ১৪১৪ খ্রিঃ দিল্লিতে খিজির খাঁ সৈয়দ বংশের শাসনের সূত্রপাত ঘটান। খিজির খাঁ ছিলেন তৈমুর লঙ্গের বিশেষ অনুগত সৈনিক। তৈমুর তাঁকে মূলতান অঞ্চলের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেছিলেন।

(৩.) আবদুর রাজ্জাকের ভারত ভ্রমনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় :- 

(i.) ইরান থেকে ভারতে আসার যাত্রাপথ :-  আবদুর রাজ্জাক ১৪৪২ খ্রিঃ জানুয়ারি মাসে হিরাট থেকে তাঁর যাত্রা শুরু করেন। তিনি ইরানের কোহিস্তান ও কেরমানের পথ ধরে পৌঁছান ইরানের হরমুজ বন্দরে। এখান থেকে সমুদ্রপথে তিনি ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু সমুদ্রের পথে বিপদের সম্মুখীন হয়ে তিনি খুব ভয় পেয়ে যান এবং নিরাপত্তার জন্য বর্তমান ওমানের রাজধানী মাস্কাটে নামেন। সেখান থেকে কারিয়াতের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময়ে পথে প্রবল গরমের মধ্যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। শেষপর্যন্ত সুস্থ হয়ে ১৮ দিনের সমুদ্র যাত্রার শেষে ১৪৪২ খ্রিঃ নভেম্বর মাসে দক্ষিণ ভারতের মালাবার উপকূলে অবস্থিত কালিকটে এসে পৌঁছান।

আবদুর রাজ্জাকের ভারত ভ্রমনপথ
আবদুর রাজ্জাকের ভারত ভ্রমনপথ 


(ii.) কালিকট ও বিজয়নগর রাজ্য পরিভ্রমন :- আবদুর রাজ্জাক ১৪৪২ খ্রিঃ নভেম্বর মাসে কালিকট বন্দরে নামেন। প্রায় তিনদিন পর কালিকটের "সামুরি" বা রাজার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটে। কালিকটের রাজা বা অধিবাসীদের দ্বারা রাজ্জাক খুব প্রভাবিত হন নি, বরং অত্যন্ত হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। কালিকটে থাকার সময়েই তিনি বিজয়নগরের রাজার তরফ থেকে আমন্ত্রন পান। এরফলে কালিকটে ছয়মাস কাটিয়ে ১৪৪৩ খ্রিঃ এপ্রিল মাসে তিনি বিজয়নগর রাজ্য পৌঁছান। কালিকট থেকে জাহাজে করে ম্যাঙ্গালোর বন্দর হয়ে হাঁটাপথে আবদুর রাজ্জাক বিজয়নগর রাজ্যে প্রবেশ করেন।

বিজয়নগর রাজ্যে রাজা দ্বিতীয় দেবরায়ের আতিথেয়তায় আবদুর রাজ্জাক প্রায় দুই বছর অতিবাহিত করেন। এই সময়ে রাজ্জাক বিজয়নগর রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমন করেন। তাঁর সঙ্গে সপ্তাহে দুইবার বিজয়নগরের মহারাজা দেখা করতেন। এরপর দুইজন যথাক্রমে তৈমুরীয় সাম্রাজ্য ও বিজয়নগর রাজ্য সম্পর্কে নানা তথ্য ও মতবিনিময় করতেন। যতবারই বিজয়নগরের মহারাজা আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে দেখা করতেন, ততবারই কিছু না কিছু উপহার প্রদান করতেন। 

(iii.) রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও ভারত ত্যাগ :- বিজয়নগর রাজের সঙ্গে রাজ্জাকের ঘনিষ্ঠতার  বিষয়টিতে বিজয়নগর রাজ্যের অনেক সভাসদ ঈর্ষান্বিত হয়ে উঠেন। এই সময় তাদের অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং গুজব রটিয়ে দেন, আবদুর রাজ্জাক আদৌ পারস্য সম্রাট মির্জা শাহরুখের দূত নন। বিষয়টি শেষপর্যন্ত বিজয়নগর রাজ দ্বিতীয় দেবরায়ের কানে পৌঁছায়। এইসময় বিষয়টির নিষ্পত্তির জন্য আবদুর রাজ্জাককে রাজদরবারে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। 

পারস্য সম্রাটের দূত হিসেবে রাজ্জাকের কাছে তখন এমন কোন জোরালো প্রমানপত্র ছিলো না, যা তিনি দেখাতে পারেন। মনে রাখতে হবে, মির্জা শাহরুখ পত্র সহযোগে রাজ্জাককে জামোরিনের দরবারে দূত হিসাবে পাঠান। বিজয়নগরের রাজার উদ্দেশ্যে প্রেরিত কোন পত্র পারস্য সম্রাট তাকে দেন নি। কালিকট থেকে বিজয়নগর রাজের আমন্ত্রনেই রাজ্জাক বিজয়নগর গিয়েছিলেন।

যাইহোক শেষ পর্যন্ত রাজ্জাককে কোন শাস্তি না দিয়ে বিজয়নগর রাজ্য পরিত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়১৪৪৪ খ্রিঃ নভেম্বর মাস নাগাদ রাজ্জাক বিজয়নগর রাজ্য ত্যাগ করে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। শেষপর্যন্ত ১৪৪৫ খ্রিঃ আবদুর রাজ্জাক সমুদ্রপথে পারস্যে ফিরে আসেন। এর কিছুদিন পর পারস্য সম্রাট মির্জা শাহরুখ বিজয়নগর রাজকে পত্র পাঠিয়ে নিশ্চিত করেন ভারতে আবদুর রাজ্জাক তাঁরই দূত ছিলেন। ১৪৮২ খ্রিঃ হিরাট শহরে আবদুর রাজ্জাকের মৃত্যু হয়। 

(৪.) আবদুর রাজ্জাকের ভ্রমন বৃত্তান্তের পরিচয় :- 

(i.) ভ্রমন বৃত্তান্তের নাম :-  আবদুর রাজ্জাক পারস্য ফিরে যাওয়ার পর তাঁর ভারত ভ্রমনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ৪৫ পৃষ্ঠার একটি বিবরনী রচনা করেন, যা তাঁর লিখিত ৪৫০ পৃষ্ঠার "মাতলা - উস - সাদাইন - ওয়া মাজমা - উল বাহরিন" (দুটি শুভ নক্ষত্রপুঞ্জের উত্থান এবং দুই মহাসাগরের সঙ্গম) গ্রন্থের একটি অধ্যায় রূপে প্রকাশিত হয়েছিলো। 

মূল গ্রন্থটি ফারসি ভাষায় লিখিত ছিলো। এর ইংরেজি অনুবাদের নাম ছিলো - "The Rise of the Two auspicious constellations and the confluence of the Two Oceans". 

(ii.) ভ্রমন বৃত্তান্তের বিষয়বস্তু :- আবদুর রাজ্জাকের ভ্রমন বৃত্তান্ত  "মাতলা - উস - সাদাইন - ওয়া মাজমা - উল বাহরিন" গ্রন্থটির বাংলা অর্থ ছিলো - "দুটি শুভ নক্ষত্রপুঞ্জের উত্থান এবং দুই মহাসাগরের সঙ্গম"। এখানে "দুটি শুভ নক্ষত্রপুঞ্জ" বলতে আকাশে উদীয়মান বিশেষ  নক্ষত্রপুঞ্জ, যা স্বর্গীয় রাজ্যের প্রতীক ছিলো, তার কথা বলা হয়েছিলো। এই স্বর্গীয় রাজ্য বলতে খুব সম্ভবত তৈমুরীয় সাম্রাজ্য ও বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কথা বোঝানো হয়েছিলো। অন্যদিকে "দুই মহাসাগরের সঙ্গম" বলতে বিজয়নগর সাম্রাজ্যের ভৌগলিক অবস্থান, যা মূলত আরবসাগর ও ভারতমহাগরের মিলনস্থল, সেটিকে বোঝানো হয়েছিলো।

তেমুরিদ বংশের শাহরুখ খানের সাম্রাজ্য ও আবদুর রাজ্জাকের বিভিন্ন স্থান ভ্রমনের বিস্তৃত বিবরন ছিলো রাজ্জাকের মূল গ্রন্থটির প্রধান আলোচ্য বিষয়। 

এই গ্রন্থটির একটি পৃথক অধ্যায়ে রাজ্জাক লিপিবদ্ধ করেছেন (ক) পঞ্চদশ শতকে তাঁর ভারত আগমনের যাত্রাপথের বিবরন, (খ) জামোরিনের অধীনে কালিকটের জীবনযাত্রার বর্ননা এবং (গ) বিজয়নগর রাজ্য ভ্রমনের নানা অভিজ্ঞতা। এছাড়া, (ঘ) ভারত মহাসাগরকে কেন্দ্র করে চলমান পঞ্চদশ শতকের আন্তর্জাতিক ব্যবসা বাণিজ্যের বিবরনও তিনি লিপিবদ্ধ করেন।

(৫.) আবদুর রাজ্জাকের ভারত ভ্রমন সংক্রান্ত বক্তব্য ও অভিজ্ঞতা :- 

(অ.) কালিকটের বর্ননা :- 

আবদুর রাজ্জাক ১৪৪২ খ্রিঃ নভেম্বর মাসে কালিকট বন্দরে অবতরন করেন। এখানে তিনি প্রায় ৫ - ৬ মাস ছিলেন। কালিকটে এসে রাজ্জাক মোটেই প্রভাবিত হন নি। উল্টে চরম হতাশ ও বিস্মিত হয়ে যান। 

(i.) স্থানীয় জনগন :-  কালিকটের স্থানীয় জনগন সম্পর্কে তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তিনি লিখেছিলেন, "এখানে বসবাসকারী মানুষেরা এরকম হতে পারে, এটা আমি জীবনে কল্পনাও করতে পারি নি।" রাজ্জাক কালিকটের অধিবাসীদের "অদ্ভুত জাতি" বলে বর্ননা করেছিলেন। তাঁর মতে কালিকটের কালো লোকজন খালি গায়ে শুধু নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত একখানি ল্যাঙ্গট পড়ে ঘুরে বেড়ায়। তাদের হাতে থাকে একটা চকচকে ধারালো ছুরি, আর এক হাতে থাকে ঢাল। 

তবে কালিকটের মুসলমানরা আরবদের মতো দামি পোশাক পরে। এখানকার কয়েকজন মুসলমান রজ্জাককে থাকার জন্য একটি বাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। 

(ii.) রাজার পরিচয় :- কালিকটের রাজার উপাধি ছিলো জামোরিন। স্থানীয় মানুষজন তাকে "সামুরি" বলে ডাকতো। প্রায় তিন দিন অপেক্ষা করার পর রাজ্জাক সামুরির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। প্রথম দর্শনে কালিকটের সাধারন মানুষদের থেকে রাজার কোন পার্থক্য রাজ্জাক খুঁজে পান নি। রাজ্জাকের মতে, এখানকার রাজাও সাধারন লোকেদের মতো খালি গায়ে নেংটি পরে থাকে। 

তবে এখানকার রাজার অদ্ভুত একটি নিয়ম ছিলো, যেটা অন্য কোথাও দেখা যায় না। কালিকটের সামুরি বা জামোরিনের মৃত্যুর পর তার ছেলে বা ভাই বা অন্যকোন আত্মীয় সিংহাসনের অধিকারী হতো না। সামুরির উত্তরাধিকারী হতেন তাঁর বোনের সন্তান। কালিকটের এই রাজকীয় প্রথা এবং আবদুর রাজ্জাকের বিবরনী থেকে এটা অনুমান করা অসঙ্গত হবে না যে, কালিকটের জামোরিন ছিলেন একজন উপজাতীয় গোষ্ঠীর নেতা

রাজ্জাক জামোরিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রথমে নিজ পরিচয় জানান এবং তারপর পারস্য সম্রাটের পত্র সহ তাঁর দেওয়া নানা উপহার সামগ্রী রাজসভায় পেশ করেন। এইসব উপহারের মধ্যে ছিলো ঘোড়া, মূল্যবান পোশাক ও বস্ত্র, নওরোজী টুপি। রাজার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় রাজ্জাক সামুরির দরবারে দুই থেকে তিন হাজার হিন্দু এবং কয়েকজন মুসলিম প্রধানদের উপস্থিতি লক্ষ্য করেছিলেন।

(iii.) কালিকট বন্দরের পরিচয় :- রজ্জাকের মতে, কালিকট বন্দর ছিলো পারস্যের হরমুজ বন্দরের মতোই ব্যস্ত ও নিরাপদ বন্দর। আরব, চিন দেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বনিকরা এখানে বানিজ্য করতে আসতো। এই বন্দরের শুল্ক হরমুজ বন্দর থেকেও কম ছিলো এবং এখানকার শুল্ক কর্মীরা খুবই সৎ, দক্ষ ও বিশ্বস্ত ছিলেন। 

আবদুর রাজ্জাকের ভারত ভ্রমনের পথ ও স্থান
আবদুর রাজ্জাকের ভারত ভ্রমনের পথ ও স্থান 

(আ.) বিজয়নগর রাজ্যের আমন্ত্রন ও ম্যাঙ্গালোরের মন্দির দর্শন :- 

আবদুর রাজ্জাককে প্রশাসনিক তথ্যানুসন্ধানের জন্য পারস্য সম্রাট মির্জা শাহরুখ কালিকটে দূত হিসাবে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু কালিকটে এসে রাজ্জাক সেরকম কোন তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন নি। তিনি অত্যন্ত হতাশ হয়ে  একসময় বাড়ি ফেরার কথা চিন্তা করেছিলেন। 

কিন্তু এইসময় কালিকটে রাজ্জাকের উপস্থিতির কথা বিজয়নগরের রাজা দ্বিতীয় দেবরায়ের কানে পৌঁছায়। তিনি পারস্যের মির্জা শাহরুখের রাজত্ব, তেমুরীন সাম্রাজ্য ও তুর্কিদের সম্পর্কে জানতে খুবই উৎসাহী ছিলেন। দ্বিতীয় দেবরায় বাহমনি সেনাদলের সঙ্গে যুদ্ধ জয়ের আশায় সেনাদলে বহু তুর্কি তীরন্দাজ নিয়োগ সহ তুর্কিদের ছাঁচে সেনাদলকে নতুন করে সংগঠিত করতে চান। পারস্যের তেমুরিদ সাম্রাজ্যের সামরিক রনকৌশল সম্পর্কেও তিনি জানতে উৎসাহি ছিলেন। সম্ভবত এই সমস্ত কারনেই দ্বিতীয় দেবরায় আবদুর রাজ্জাককে বিজয়নগর রাজ্যে আমন্ত্রন জানান।

সামুরির দরবারে দ্বিতীয় দেবরায় এক দূত পাঠিয়ে, রাজ্জাককে বিজয়নগর রাজ্যে পরিভ্রমনের জন্য আমন্ত্রন জানান। সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে রাজ্জাক জাহাজে করে প্রথমে ম্যাঙ্গালোর বন্দর পরে সেখান থেকে হাঁটাপথে বিজয়নগরে প্রবেশ করেন। রাজ্জাকের মতে, বিজয়নগর সাম্রাজ্যের ভূখন্ড স্থলভাগে এতটাই বিস্তৃত ছিলো যে, তা অতিক্রম করতে তিন মাস সময় লাগতো। 

বিজয়নগর যাওয়ার পথে রাজ্জাক ম্যাঙ্গালোরে এক অপূর্ব সুন্দর মন্দির দেখতে পান। এই মন্দিরটিকে তিনি বিশ্বে অদ্বিতীয় বলে বর্ননা করেছিলেন।

(ই.) বিজয়নগর রাজ্যের বর্ননা :- 

১৪৪৩ খ্রিঃ এপ্রিল মাসে আবদুর রাজ্জাক বিজয়নগর রাজ্যে আসেন। বিজয়নগরের সিংহাসনে তখন ছিলেন সঙ্গম বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ নৃপতি দ্বিতীয় দেবরায়। আবদুর রাজ্জাক বিজয়নগর রাজ্যের যেসব বর্ননা দিয়েছিলেন, তা আমরা নিন্মলিখিত ভাবে তুলে ধরতে পারি। 

(i.) রাজার বর্ননা :- বিজয় নগরের রাজা দ্বিতীয় দেবরায়ের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের একটি সুন্দর বিবরন রাজ্জাক তাঁর ভ্রমন বৃত্তান্তে লিপিবদ্ধ করেন। 

তাঁর মতে, বিকেলবেলায় রাজার একজন দূত এসে রাজ্জাককে রাজদরবারে সাক্ষাতের জন্য ডেকে নিয়ে যায়। রাজ্জাক যখন রাজদরবারে পৌঁছান, তখন সেখানে দেখতে পান দ্বিতীয় দেবরায় চল্লিশ স্তম্ভযুক্ত একটি বড় ঘরে সিংহাসনে বসে আছেন। ব্রাহ্মন এবং অন্যান্য অনেক লোক রাজার ডাইনে ও বাঁয়ে দাঁড়িয়েছিলো। রাজার গায়ের রং ছিলো জলপাই রঙের মতো। পরনে ছিলো উর্ধাঙ্গ অনাবৃত রাজকীয় পোশাক ও মুক্তোর মালা। রাজা ছিলেন লম্বা, তরুন এবং সুদর্শন। তাঁর গালে অতি সামান্য কেশ, কিন্তু চিবুকে কোন দাড়ি ছিলো না। 

আবদুর রাজ্জাক দ্বিতীয় দেবরায়কে তিনবার নত মস্তকে নমস্কার করে ৫ টি সুন্দর ঘোড়া, থালাভর্তি রেশম বস্ত্র প্রদান করে সৌজন্য জ্ঞাপন করেন। দ্বিতীয় দেবরায়ও এর পাল্টা সৌজন্য দেখিয়ে রাজ্জাকে তার কাছের একটি আসনে বসতে বলেন এবং উপহার স্বরূপ একটি ধালায় পান, কর্পূর এবং ৫০০ মুদ্রা দেওয়া হয়। রাজ্জাকের থাকার ব্যবস্থা করা হয় সম্রাটের প্রাসাদের কাছাকাছি একটি ঘরে এবং খাওয়ার জন্য দৈনিক বরাদ্দ করা হয় - দুটি ভেড়া, চার জোড়া মুরগি, ৫ মন চাল, এক মন মাখন এবং এক মন চিনি। এছাড়াও একথলি স্বর্নমুদ্রাও তাকে প্রদান করা হয়। 

(ii.) রাজপ্রাসাদ ও রাজার অন্দরমহলের পরিচয় :- রাজার প্রাসাদের কাছাকাছি থাকার ফলে আবদুর রাজ্জাক রাজার অন্দরমহল সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পারেন। আবদুর রাজ্জাকের মতে, রাজধানী বিজয়নগরে রাজার প্রাসাদ সাত - আট মাইল দূরত্ব অন্তর সাতটি দুর্গ ও প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত ছিলো। রাজা পাহাড়ের শীর্ষে অবস্থিত দুর্ভেদ্য সপ্তম দুর্গে বাস করতেন। রাজার প্রাসাদের বামদিকে ছিলো দেওয়ানখানা ও টাঁকশাল। 

রাজ্জাকের মতে, রাজার রাজপ্রাসাদের কয়েকটি কুঠুরি সোনা ও রূপার বাটে ভরতি থাকতো। রাজার মজুত ভান্ডারের কিছুই বাজারে ছাড়া হতো না। রাজার দরবার হল ও সিংহাসনটি ছিলো অত্যন্ত জমকালো ও দেখার মতো। দরবার হলের ভিতর দিকের ছাদ ও দেওয়াল রত্নখোচিত সোনার পাতে মোড়া ছিলো। রাজার সিংহাসনটি ছিলো মনিমানিক্যখচিত ও অপূর্ব কারুকার্যে সজ্জিত।

আবদুর রাজ্জাক "জেনানা মহল" নামে ইন্দো - সারাসেনিক স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত একটি প্রাসাদের কথা লিখেছিলেন, যেখানে রাজপরিবারের নারীরা থাকতেন। রাজ্জাকের বর্ননা অনুযায়ী, দ্বিতীয় দেবরায়ের প্রাসাদে ছিলো ৭০০ রানি ও অসংখ্য উপপত্নী। বিজয়নগর রাজ্যের কোথাও সুন্দরী মেয়ে দেখতে পাওয়া গেলে মেয়েটির বাবা মাকে প্রচুর অর্থ দিয়ে মেয়েটিকে রাজার অন্তঃপুরে নিয়ে আসা হতো। তারপর কেউ আর তাকে দেখতে পেতো না। অন্তঃপুরে রানিদের সেবার জন্য অসংখ্য দাসী ছিলো। 

(iii.) দেওয়ানখানার বর্ননা :- আবদুর রাজ্জাক বিজয়নগর রাজ্যের দেওয়ানখানা এবং দেওয়ানের কাজের বিবরনও লিপিবদ্ধ করেছিলেন। আবদুর রাজ্জাক যখন বিজয়নগরে আসেন, তখন এখানকার দেওয়ান ছিলেন লক্কনা দন্নায়ক

বিজয়নগরে দেওয়ান বিশেষ শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা ভোগ করতেন। রাজপ্রাসাদের পিছনে ছিলো দেওয়ানের বাড়ি। আর রাজপ্রাসাদের বামদিকে ছিলো দেওয়ানের দপ্তর, যাকে "দেওয়ানখানা" বলা হতো। দেওয়ানখানা দেখতে অনেকটা রাজপ্রাসাদের মতোই। এখানে কেরানিরা খাতা দেখার কাজকর্ম করতেন। আর কক্ষের মাঝখানে একটি উঁচু আসনে দেওয়ান বসতেন। রাজ্যের বিভিন্ন লোকজন দেওয়ানখানায় প্রবেশ করে দেওয়ানকে কিছু ভেট বা উপহার প্রদান করে তাঁর অভিযোগ বা আর্জি জানাতেন। দেওয়ান প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিধান বা প্রতিকার করতেন। দেওয়ানের রায় ছিলো চূড়ান্ত, এবং তার বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ করা যেতো না। দেওয়ানের কাজ সম্পন্ন করে তার বিস্তারিত রিপোর্ট রাজাকে দিয়ে দেওয়ান নিজের প্রাসাদে চলে যেতেন। 

(iv.) রাজধানী বিজয়নগরের (হাম্পি) বর্ননা :- তুঙ্গভদ্রা নদীর তীরে বিজয়নগর শহরটি (বর্তমান নাম হাম্পি) ছিলো বিজয়নগর রাজ্যের রাজধানী। আবদুর রাজ্জাকের মতে, বিজয়নগর শহরটি শুধু ভারতের নয়, সারা পৃথিবীর একটি সেরা শহর ছিলো। 

সমগ্র শহরটি পরপর নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর (৭ - ৮ মাইল) সাতটি প্রাচীর দ্বারা ঘেরা ছিলো। একটি প্রাচীর ঘেরা এলাকা থেকে পরের প্রাচীর ঘেরা অংশে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট ফটক বা দরজা ছিলো। প্রতিটি প্রাচীর ঘেরা অংশেই একটি সুরক্ষিত দুর্গ ছিলো। একেবারে বাইরের দিকের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রাচীরের মধ্যে ছিলো চাষযোগ্য জমি, বাগান ও অন্যান্য বাড়িঘর। চতুর্থ থেকে একেবারে কেন্দ্রে বা মাঝখানে সপ্তম প্রাচীরের মধ্যে স্থানে স্থানে ছিলো অনেক দোকানপাট ও বাজার। প্রতিটি বাজারের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ অনেক বড়ো ছিলো। 

নগরের একেবারে মাঝে সপ্তম প্রাচীরে ঘেরা সপ্তম দুর্গটির মধ্যে রাজপ্রাসাদ অবস্থিত ছিলো। বিজয়নগরের রাজা একটি পাহাড়ের শীর্ষে অবস্থিত দুর্ভেদ্য দুর্গে বাস করতেন। রাজপ্রাসাদের সামনে চারটি বড়ো বাজার ছিলো। বাজার ও রাজপ্রাসাদ সংলগ্ন এলাকায় প্রচুর জলপ্রবাহ ও খাল ছিলো। বিজয়নগরে ভারতীয় প্রথা মেনে প্রত্যেক জাতি বা পেশার লোক পৃথক স্থানে বাস করতো। মুসলমানদের জন্যও পৃথক বসবাসের এলাকা ছিলো।

(v.) টাঁকশাল ও মুদ্রার পরিচয় :- আবদুর রাজ্জাকের মতে, রাজপ্রাসাদের বামদিকে রাজ্যের দবরখানা বা টাঁকশাল ছিলো। এখানে বিজয়নগর রাজ্যের মুদ্রা গুলি তৈরি করা হতো। সেই সময়ে বিজয়নগর রাজ্যে পাঁচ ধরনের মুদ্রা প্রচলিত ছিলো। যথা - বরাহ, পরতব, ফনম, তর এবং জিতলপ্রথম ৩ টি ছিলো স্বর্নমুদ্রা, পরের দুটি ছিলো যথাক্রমে রুপো ও তামার মুদ্রা। 

বরাহ ছিলো সবচেয়ে বেশি মূল্যের স্বর্নমুদ্রাতার অর্ধেক মূল্যের স্বর্নমুদ্রা ছিলো পরতব, পরতবের মূল্যের ১/১০ ভাগ স্বর্নমুদ্রা ছিলো ফনম। ফনমের ব্যবহার সবথেকে বেশি ছিলো। ফনমের মূল্যের ১/৬ ভাগ রূপার মুদ্রা ছিলো তর এবং তরের ১/৩ ভাগ তামার মুদ্রা ছিলো জিতল

(vi.) সমাজ জীবনের বর্ননা :- আবদুর রাজ্জাক বিজয়নগরের সামাজিক জীবন সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য লিপিবদ্ধ করেন। যেমন - 

  • বিবাহপ্রথা :- আবদুর রজ্জাকের মতে, বিজয়নগরে পুরুষেরা বহু বিবাহে আসক্ত ছিলো। খোদ রাজা দ্বিতীয় দেবরায়ের অন্তঃপুরে ছিলো ৭০০ রানি ও বহু উপপত্নী
  • নারীদের অবস্থা :- রজ্জাকের মতে, বিজয়নগরের নারীদের একটি বড়ো অংশ ছিলো ভ্রষ্টা নারী। এই ভ্রষ্টা নারীদের একটি অংশ রাজধানীতে গনিকালয়ে স্বাধীনভাবে জীবিকা অর্জন করতো এবং রাজদরবারে হালকা অনুষ্ঠান ও উৎসবের সঙ্গে যুক্ত থাকতো। লোকে এদের কুলটা বলতো। 
  • ভ্রষ্টা নারীদের আরেকটি অংশ মন্দিরের দেবদাসী ছিলেন। দেবতাদের সেবায় নিয়োজিত হলেও, এরা মন্দিরের পুজারিদের দ্বারা নিয়মিত কামনা বাসনার শিকার হতেন। রাজ্জাক বিজয়নগরে একাধিক গনিকালয় দেখেছিলেন। তিনি লিখেছেন, বিজয়নগরে গনিকালয় থেকে আদায় করা কর দিয়েই নগরপাল ও তাঁর রক্ষীদের বেতন দেওয়া হতো। রাজ্যের সুন্দরী মেয়েদের অর্থের বিনিময়ে রাজার অন্তঃপুরে নিয়ে আসা হতো। রাজ্জাকের বিবরনী থেকে বোঝা যায়, বিজয়নগরে নারীদের অবস্থা ভালো ছিলো না। তবে সাধারন গৃহস্থ ঘরের নারীদের সেভাবে দেখেন নি বলে, তাদের সম্পর্কে রাজ্জাক কোন কিছুই লেখেন নি। 
  • সতীদাহপ্রথার উপস্থিতি :- অন্যান্য পর্যটকদের মতো আবদুর রাজ্জাকও সতীদাহপ্রথা দেখেছিলেন। তাঁর মতে, বিজয়নগরে সতীদাহপ্রথা বেশ ব্যাপক ছিলো। সতীদাহপ্রথায় অংশগ্রহনকারী পরিবারকে খুবই সম্মানের নজরে দেখা হতো। ব্রাহ্মনরা সতীদাহে উৎসাহ দিতেন।
  • সাজপোশাকের পরিচয় :- আবদুর রাজ্জাক লিখেছেন, বিজয়নগরে নারী পুরুষ, ধনী - দরিদ্র সকলেই শরীরের বিভিন্ন অংশে গহনা পরতো। তারা আঙ্গুল, কান, গলা, বাহু এবং হাতে রত্নখচিত বহুমূল্য অলংকার পরতো। তাদের পোশাকও বেশ রুচিসম্মত ছিলো। বিজয়নগরের লোকেরা সাজ পোশাকের জন্য বিভিন্ন ফুলের ব্যবহার করতো। ফুলের মধ্যে গোলাপের কদর ও ব্যবহার ছিলো বেশি। 
  • খাদ্যাভ্যাসের পরিচয় :- আবদুর রাজ্জাকের মতে, বিজয়নগরের সাধারণ মানুষের প্রধান খাদ্য ছিলো ভাত ও মাছ। এই রাজ্যের মানুষ অনেকরকম পশু পাখি শিকার করে মাংস খেতো। মহানবমীর সময় রাজা পশুবলির ব্যবস্থা করতেন। তবে এখানকার ব্রাহ্মনরা মাছ, মাংস খেতেন না। তারা নিরামিষাশী ছিলেন।
  • উৎসবের পরিচয় :- আবদুর রাজ্জাকের মতে, বিজয়নগরের সবচেয়ে বড়ো উৎসব ছিলো মহানবমী উৎসব। এই মহানবমী উৎসবটি শুরু হতো দুর্গাপুজার নবমী তিথিতে। খুব জাঁকজমক করে তিনদিন ধরে এই উৎসব পালন করা হতো। রাজা দ্বিতীয় দেবরায়ের সময় রাজ্জাক মহানববী উৎসব প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং তার একটি সবিস্তার বিবরন তাঁর ভ্রমন বৃত্তান্তে লিপিবদ্ধ করেছিলেন।
  • উৎসবের সময় রাজার আদেশে সমস্ত প্রদেশের সামন্তরাজারা রাজপ্রাসাদে উপস্থিত হতেন। উৎসবের দিন গুলিতে নাচ, গান, বাজিকর ও হাতির খেলা দেখানো হতো। রাজা নয়তলা উঁচু থামওয়ালা একটি প্রাসাদে বহুরত্নখোচিত সোনার সিংহাসনে বসে উৎসব উপভোগ করতেন।

(vii.) অর্থনৈতিক অবস্থার পরিচয় :- আবদুর রাজ্জাক বিজয়নগরের আর্থিক সমৃদ্ধি ও সম্পদের প্রাচুর্য দেখে বিস্মিত ও অভিভূত হয়ে যান। তাঁর মতে, বিজয়নগরের এই অর্থনৈতিক প্রাচুর্য্যের মূলে ছিলো এর সমৃদ্ধশালী কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য। 

কৃষি :- বিজয়নগরে কৃষি ব্যবস্থা খুব উন্নত ছিলো। রাজ্জাকের মতে, রাজ্যের বেশিরভাগ জমি উর্বর ছিলো। কৃষির জন্য জলসেচের সুবন্দোবস্ত ছিলো।

শিল্প :- শিল্পোৎপাদনের দিক থেকে বস্ত্রশিল্প, যন্ত্রশিল্প, অলংকারশিল্প, ধাতু ও খনিশিল্প ছিলো প্রধান।

বানিজ্য :- সুলতানি আমলে বিজয়নগর রাজ্য ছিলো বৈদেশিক বাণিজ্যের একটি বড়ো ঘাটি। রাজ্জাকের মতে, বিজয়নগরে ৮০ টি বানিজ্যকেন্দ্র ও ৩০০ টি বন্দর ছিলো। প্রতিটি বন্দর ছিলো কালিকট বন্দরের সমান। এই বন্দর গুলির মাধ্যমে চিন, মালয়, ব্রহ্মদেশ, পারস্য, পোর্তুগাল ও আফ্রিকার সঙ্গে বানিজ্য চলতো। বিদেশী বনিকরা বিজয়নগরে স্বচ্ছন্দে ও স্বাধীনভাবে বানিজ্য করতে পারতো।

  • প্রধান রপ্তানি দ্রব্য ছিলো - চাল, লোহা, গন্ধক, চিনি, মশলা ও কাপড়। 
  • আমদানি দ্রব্যের মধ্যে ছিলো - আরবি ঘোড়া, মুক্তা, তামা, প্রবাল, পারদ ও রেশমবস্ত্র। 
বিজয়নগর রাজ্যে ঘোড়া পাওয়া যেতো না বলে হরমুজ /ওরমুজ থেকে ঘোড়াবোঝাই জাহাজ গুলি গোয়া বন্দরে ভিড়তো। সেখান থেকে বিজয়নগরের বনিকরা ঘোড়া গুলি কিনে নিতো।

গিল্ড :- আবদুর রাজ্জাকের বিবরনী থেকে জানা যায়, বিজয়নগরে শিল্পী ও বনিকদের পৃথক পৃথক সংঘ বা গিল্ড ছিলো। এরাই দেশের শিল্প ও বাণিজ্যকে নিয়ন্ত্রন করতো।

(viii.) রাজার সুশাসনের পরিচয় :- আবদুর রাজ্জাক বিজয়নগরের রাজা দ্বিতীয় দেবরায়ের সুশাসনের বিস্তারিত বর্ননা লিপিবদ্ধ করেছিলেন। 

  • তাঁর মতে, বিজয়নগর রাজ্য ছিলো শৃঙ্খলাবদ্ধ এক সমৃদ্ধ রাজ্য।
  • শাসন ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্থানে ছিলেন রাজা। তবে রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তর বা বিভাগ গুলি পরিচালনা করতেন বিভিন্ন মন্ত্রীমন্ডলি
  • রাজার সৈন্যসংখ্যা ছিলো প্রায় ১১ লক্ষ। সমগ্র হিন্দুস্থানে দ্বিতীয় দেবরায়ের মতো শক্তিশালী রাজা আর কেউ ছিলো না। রাজা ছিলেন ন্যায় পরায়ন ও সুশাসক
  • রাজ্য শাসনের জন্য রাজা অনেক দক্ষ রাজকর্মচারী নিযুক্ত করতেন এবং ব্রাহ্মনদেরই প্রাধান্য দিতেন।
  • বিজয়নগরের রাজারা শাসননীতির ক্ষেত্রে ধর্মসহিষ্ণুতার নীতি অনুসরণ করতেন। এখানকার হিন্দু রাজারা মুসলিম বিদ্বেষী ছিলেন না এবং রাজনীতিতে ইসলাম বিরোধী মনোভাব প্রচারে কোন উদ্যোগ নেন নি। রাজা দ্বিতীয় দেবরায় তাঁর সেনাবাহিনীতে অনেক মুসলিম সেনা নিয়োগ করতেন। রাজ্যে হিন্দু - মুসলমান প্রজা পৃথক স্থানে শান্তিপূর্ন ভাবে বসবাস করতো।
  • বিজয়নগর রাজ্যটি সঙ্গম বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ নৃপতি দ্বিতীয় দেবরায়ের দ্বারা সুশাসিত ছিলো। রাজ্যটি ছিলো যথেষ্ট নিরাপদ ও চোর ডাকাত থেকে মুক্ত। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা ছিলো যথেষ্ট ভালো। কারন বিজয়নগরের বাজারে প্রকাশ্য স্থানে জহুরিরা মুক্তা, পান্না, হিরের মতো মূল্যবান রত্ন বিক্রি করতো।
  • আবদুর রাজ্জাকের মতে, দ্বিতীয় দেবরায়ের সময় বিজয়নগর সাম্রাজ্য সেরেনডিব (শ্রীলঙ্কা) এর সীমান্ত থেকে কালবেরগ (গুলবর্গা) ও ঊড়িষ্যা থেকে মালাবার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো। 

(৬.) আবদুর রাজ্জাকের ভ্রমন বৃত্তান্তের গুরুত্ব :- 

ইরনের পর্যটক আবদুর রাজ্জাক তাঁর ভারত ভ্রমনের যে বিবরন লিপিবদ্ধ করেন তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছিলো অপরিসীম।

প্রথমত, বিজয়নগর রাজ্যের ইতিহাস রচনায় বিশেষকরে সঙ্গম বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ নৃপতি দ্বিতীয় দেবরায়ের রাজত্বকালের ইতিহাস রচনায় আবদুর রাজ্জাকের বিবরনী থেকে বহু মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায়। 

দ্বিতীয়ত, পঞ্চদশ শতাব্দীর ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রেও রাজ্জাক পরিবেশিত তথ্যকে ঐতিহাসিকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে থাকেন। 

তৃতীয়ত, আবদুর রাজ্জাক বিজয়নগর শহর ও রাজপ্রাসাদের স্থাপত্যশৈলী এবং রাজার সাজপোশাকের যে বিবরনী পেশ করেছিলেন, তাও ছিলো যথেষ্ট অভিনব ও তাৎপর্যপূর্ণ। দেশীয় সাক্ষ্যের উপাদানগুলিতে এসব বর্ননার আলোচনা খুব একটা ছিলো না। আবদুর রাজ্জাকের বিবরনী পড়ে বিজয়নগর রাজ্যের একটি জীবন্ত প্রতিচ্ছবি আমরা পেয়ে থাকি।

চতুর্থত, মালাবারের বিখ্যাত বন্দর কালিকটের রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থা ও সমাজজীবন সম্পর্কে রাজ্জাক যেটুকু বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেন, ঐতিহাসিক সত্যানুসন্ধানে তাঁর গুরুত্বও কোন অংশে উপেক্ষনীয় ছিলো না।

(৭.) আবদুর রাজ্জাকের ভ্রমন বৃত্তান্তের সীমাবদ্ধতা :- 

আবদুর রাজ্জাকের ভ্রমন বৃত্তান্তের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা ছিলো। যেমন - 

প্রথমত, ভারতে আবদুর রাজ্জাকের ভ্রমন মূলত কালিকট ও বিজয়নগর রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো। ফলে রাজ্জাকের বিবরনী থেকে সমগ্র ভারতবর্ষের কথা জানতে পারা যায় না। 

দ্বিতীয়ত, রাজ্জাকের বিবরনী সব অংশে সত্য ও নিরপেক্ষও ছিলো না। কালিকটের জনজীবন বর্ননায় তিনি হিন্দুদের এবং মুসলিমদের পোশাক পরিচ্ছদের যে বিবরন লিপিবদ্ধ করেন তা নিরপেক্ষ ছিলো না। দ্বিতীয় দেবরায়ের অন্তঃপুরে যে বিপুল পরিমান রানিদের উপস্থিতির কথা তিনি জানিয়েছিলেন, তা অতিরঞ্জন দোষে দুষ্ট ছিলো।

তৃতীয়ত, রাজ্জাক একজন সাধারণ পর্যটকের দৃষ্টিতে যা দেখেছেন, তাই লিখেছিলেন। যা দেখেন নি, তাকে জানার বা অনুসন্ধান করার কোন চেষ্টা করেন নি। এই কারনে তাঁর বিবরনে বিজয়নগরে নারী মাত্রই ভ্রষ্টা নারীদের বিবরন উঠে এসেছিলো। সাধারন গৃহস্থ নারীদের কথা তার বিবরনীতে স্থান পায় নি। তিনি কালিকটে এসে সেখানকার সাজ পোশাক দেখে খুব বিরক্ত হয়েছিলেন। আলবেরুনীর মতো সংস্কৃতিকে বোঝার বা জানার চেষ্টাও করেন নি। 


সংক্ষিপ্ত তথ্যের অনুশীলনী :- 


1/35
আবদুর রাজ্জাক ভারত ভ্রমনে আসেন ________শতাব্দীতে।
পঞ্চদশ শতাব্দীতে।
2/35
আবদুর রাজ্জাকের প্রকৃত নাম কি ছিলো?
কামালউদ্দিন আবদুর রাজ্জাক বিন ইশাক সমরকান্দি।
3/35
পারস্য দেশটি বর্তমান নাম হলো _______।
ইরান।
4/35
আবদুর রাজ্জাক কত খ্রিঃ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
১৪১৩ খ্রিঃ ৭ ই নভেম্বর, বর্তমান আফগানিস্তানের হিরাট শহরে।
5/35
মির্জা শাহরুখ কে ছিলেন?
পারস্যের তিমুরিদ বংশের একজন সম্রাট।
6/35
আবদুর রাজ্জাক কার দূত হয়ে ভারতে আসেন?
পারস্যের তিমুরিদ বংশের সম্রাট মির্জা শাহরুখের দূত হয়ে ভারতে আসেন।
7/35
আবদুর রাজ্জাক কত খ্রিঃ কালিকট বন্দরে অবতরন করেন?
১৪৪২ খ্রিঃ নভেম্বর মাসে।
8/35
আবদুর রাজ্জাক ভারতের কোন অঞ্চলের লোকেদের "অদ্ভুত জাতি" বলে উল্লেখ করেন?
কালিকটের।
9/35
কালিকটের রাজাকে কি নামে ডাকা হতো?
সামুরি।
10/35
আবদুর রাজ্জাকের পিতার নাম কি ছিলো?
জালালউদ্দিন ইশাক।
11/35
আবদুর রাজ্জাক ইরানের কোন বন্দর থেকে তার ভারত ভ্রমনের যাত্রা শুরু করেন?
হরমুজ বন্দর থেকে।
12/35
আবদুর রাজ্জাকের ভ্রমন বৃত্তান্তের নাম কি?
"মাতলা - উস - সাদাইন - ওয়া মাজমা - উল - বাহরিন" ।
13/35
আবদুর রাজ্জাকের ভ্রমন বৃত্তান্তটি কোন ভাষায় লেখা হয়েছিলো?
ফারসি ভাষায়।
14/35
আবদুর রাজ্জাকের আগমনকালে বিজয়নগরের রাজা কে ছিলেন?
সঙ্গম বংশের দ্বিতীয় দেবরায়।
15/35
বিজয়নগরে সঙ্গম বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ নৃপতির নাম কি?
দ্বিতীয় দেবরায়।
16/35
আবদুর রাজ্জাক কত খ্রিঃ বিজয়নগর রাজ্যে আসেন?
১৪৪৩ খ্রিঃ এপ্রিল মাসে।
17/35
আবদুর রাজ্জাক যখন বিজয় নগরে আসেন, তখন বিজয়নগরের দেওয়ান কে ছিলেন?
লক্কনা দন্নায়ক।
18/35
বিজয়নগর শহরটি কটি প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিলো?
৭ টি।
19/35
আবদুর রাজ্জাকের মতে, বিজয়নগরের বন্দর ছিলো _________টি।
৩০০
20/35
বরাহ কি?
বিজয়নগরের সর্বোচ্চ মূল্যের স্বর্নমুদ্রা।
21/35
পরতাব এবং ফনম কি?
বিজয়নগরের স্বর্নমুদ্রা।
22/35
বিজয়নগরে প্রচলিত রৌপ্য মুদ্রার নাম কি ছিলো?
তর।
23/35
বিজয়নগরে প্রচলিত তাম্রমুদ্রার নাম কি ছিলো?
জিতল।
24/35
আবদুর রাজ্জাক ভারতের সবচেয়ে সুদৃশ্য মন্দিরটি কোথায় দেখেছিলেন?
ম্যাঙ্গালোরে।
25/35
বিজয়নগরের প্রধান উৎসবের নাম কি?
মহানবমী উৎসব।
26/35
"জেনানা মহল" কাদের জন্য তৈরি করা হয়েছিলো?
বিজয়নগরের রাজপরিবারের মহিলাদের জন্য।
27/35
বিজয়নগরে মহানবমী উৎসবটি কোন সময়ে হতো?
দুর্গাপুজার নবমী তিথিতে।
28/35
আবদুর রাজ্জাকের বর্ননা অনুযায়ী বিজয়নগর রাজ্যের রাজা দ্বিতীয় দেবরায়ের সৈন্য সংখ্যা কত ছিলো?
১১ লক্ষ।
29/35
কত খ্রিঃ আবদুর রাজ্জাকের মৃত্যু হয়?
১৪৮২ খ্রিঃ।
30/35
বিজয়নগরের জনজীবনে কোন ফুলের বিশেষ গুরুত্ব ছিলো বলে আবদুর রাজ্জাক উল্লেখ করেন?
গোলাপ ফুল।
31/35
আবদুর রাজ্জাক কালিকট বন্দরে কতদিন অবস্থান করেন?
৫ থেকে ৬ মাস।
32/35
আবদুর রাজ্জাক কবে বিজয়নগর ত্যাগ করেন?
১৪৪৩ খ্রিঃ নভেম্বর মাসে।
33/35
আবদুর রাজ্জাকের ভারত আগমনকালে দিল্লিতে কোন বংশের শাসন চলছিলো?
সৈয়দ বংশের।
34/35
মধ্যযুগে আগত কোন পর্যটককে "Reluctant Traveller নামে অভিহিত করা হতো?
আবদুর রাজ্জাককে।
35/35
কালিকট বন্দরটি ভারতের কোন উপকূলে অবস্থিত ছিলো?
মালাবার উপকূলে।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post