ভক্তিবাদী সন্ত - কবির

 মধ্যযুগের ভারতে ভক্তিবাদী সাধকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কবির। "কবির" একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ ছিলো মহান। যদিও বৈষ্ণব পরম্পরার জীবনীগুলিতে কবিরকে "কবিরদাস" নামে উল্লেখ করা হয়েছে। কবিরের সময়কাল সম্পর্কে খুব নিশ্চিত করে কিছু জানা যায় না। খুব সম্ভবত কবির দিল্লির লোদী বংশের সুলতান সিকান্দর লোদীর সমসাময়িক ছিলেন। সিকান্দর লোদী (প্রকৃত নাম ছিলো নিজাম শাহ খান। "সিকান্দর শাহ" উপাধি নিয়ে দিল্লির সিংহাসনে বসেছিলেন।) ১৪৮৯  খ্রিঃ থেকে ১৫১৭ পর্যন্ত দিল্লির সুলতান ছিলেন। পরোক্ষ কিছু ঐতিহাসিক তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে ঐতিহাসিকরা অনুমান করেন কবির সম্ভবত চতুর্দশ শতকের শেষের দিক থেকে ষোড়শ শতকের প্রথম দিকের মধ্যে (আনুমানিক ১৩৯৮ - ১৫১৮ খ্রিঃ অথবা ১৪৪০ - ১৫১৯ খ্রিঃ) জীবিত ছিলেন।

ভক্তিবাদী সন্ত - কবির
ভক্তিবাদী সন্ত - কবির


(১.) কবিরের জীবনী :-

কবিরের জীবনী নিয়ে নানা মিথ, কিংবদন্তি ও জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। কিংবদন্তি অনুসারে কবির এক বিধবা ব্রাহ্মনীর গর্ভজাত সন্তান ছিলেন। জন্মের পর লোকলজ্জার ভয়ে তাঁর মা তাকে কাশীর নিকটবর্তী লাহরতালাবে (বর্তমান বারানসী) এক সরোবরে পরিত্যাগ করেন। পরে এক নিঃসন্তান জোলা বা তাঁতি নীরু এবং তাঁর স্ত্রী নীমা কবিরকে পুত্রস্নেহে কোলে তুলে নেন এবং লালন পালন করেন।

কবির এক নিন্মবিত্ত ঘরের সন্তান ছিলেন। খুব ছোটবেলা থেকেই কবির তাঁর পালক পিতার বৃত্তিকেই অর্থাৎ তাঁত বোনাকে জীবিকা হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। কবিরের অনেক বচন বা দোঁহা গুলির মধ্যে তাই বুনন শিল্পের নানা উপমার পরিচয় ফুটে উঠতে দেখা যায়। পরিনত বয়সে কবির লোইনাম্নী নামে এক নারীকে বিবাহ করেছিলেন। তাঁরই গর্ভে কবিরের কামাল নামে এক পুত্র ও কামালি নামে এক কন্যার জন্ম হয়। সংসারধর্ম পালন করলেও, কবির কখনই সাংসারিক মোহ মায়ায় নিজেকে আচ্ছন্ন করেন নি। এ প্রসঙ্গে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি ছিলো, প্রত্যেককেই কাজ করতে হবে। অপরকে সাহায্য করার জন্য উপার্জন করতে হবে। কিন্তু ব্যক্তিগত স্বার্থে সঞ্চয় করা চলবে না। 

(২.) কবিরের দীক্ষালাভ :-

বাল্যকাল থেকেই কবির এক ধর্মীয় উদারতার পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। কবিরের জন্ম এবং কর্মস্থল দুই ছিলো হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্থান বারানসীতে। অন্যদিকে মুসলমান তাঁতির দ্বারা পালিত হওয়ায় খুব শৈশব থেকেই তিনি মুসলমান ধর্ম ও সুফি সাধকদের সান্নিধ্য লাভের সুযোগ লাভ করেছিলেন। দুই সমান্তরাল ধর্মের পরিমন্ডলে বেড়ে ওঠায় কবিরের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই কোন ধর্মীয় সংকীর্ণতা ছিলো না। বরং ধর্মকে জানার অপার আগ্রহ ছিলো। এই আগ্রহ থেকেই তিনি বিভিন্ন ধর্মসাধকদের কাছে শিক্ষা লাভ করেন। 

(ক.) রামানন্দ ধর্মপ্রচারের জন্য বারানসীতে এলে কবির তাঁর আধ্যাত্মিক তৃষা নিবারনের জন্য ভক্তিবাদী গুরু রামানন্দের কাছে প্রেম ও ভক্তিমন্ত্রে দীক্ষা গ্রহন করেন। 

(খ.) খাজিনাত আল - আসাফিয়ার মতে, কবির শেখ তাক্কি নামে একজন সুফি পীরের কাছ থেকে ধর্ম শিক্ষা লাভ করেন। এছাড়া, 

(গ.) ঈশ্বর ও ধর্ম বিষয়ে তিনি গোরক্ষনাথের আদর্শে বিশ্বাসী নাথপন্থীদের কাছ থেকেও শিক্ষা লাভ করেছিলেন।

(৩.) কবিরের ধর্মপ্রচার : বৈশিষ্ট্য 

বিভিন্ন সাধকদের কাছ থেকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা লাভের পর কবির তাঁর ধর্মমত প্রচার করেন। কবির বৈষ্ণব, সুফি, নাথপন্থী ইত্যাদি বিভিন্ন ধর্মমতের আধ্যাত্মিক গুরুদের কাছে শিক্ষা লাভ করলেও, তিনি বিশেষ কোন মতের বা সম্প্রদায়ের ধর্ম প্রচার করেন নি। তিনি কখনো তাঁর ধর্মমতের মধ্য দিয়ে কোন বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীও তৈরি করতে চান নি।

আসলে নানা অন্ধবিশ্বাস, মানুষে মানুষে হানাহানি ও ধর্মান্ধতায় অন্ধ মধ্যযুগে কবির প্রেম, ভক্তি, মানবতাবাদ ও সমন্বয়ের বানী প্রচার করেন। কবির কথ্য হিন্দি ভাষায় দুই পক্তির ছন্দবদ্ধ ভাববাদী কবিতার মধ্য দিয়ে তাঁর বানী প্রচার করতেন, যেগুলিকে "দোঁহা" বলা হতো। এই দুই পংক্তির কবিতার মধ্য দিয়ে তিনি ধর্মের জটিল তত্ত্বগুলিকে অতি সুন্দর ভাবে প্রকাশ করতেন। তাঁর রচিত এই দোঁহাগুলি শুধুমাত্র দার্শনিক ও ধর্মীয় তত্ত্বেই সীমাবদ্ধ ছিলো না, এগুলি ছিলো হিন্দি সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। কবির নিরক্ষর ছিলেন, তাই মৌখিক ভাবেই নানা দোঁহা রচনা করে প্রচার করতেন। 

কবির তাঁর একটি দোঁহাতে বলেন, "জাতি না পুছ সাধু কি/পুছ লিজিয়ে জ্ঞান /মোল করো তলবার কা/পরা রহান দো ময়ান"। এর অর্থ সাধুর সার্থকতা তার জ্ঞানে, সে কোন জাতের তাতে নয়। তাই তরোয়ালের খাপের থেকে আমরা যেমন তরোয়ালকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি, তেমনি সাধু বা জ্ঞানী ব্যক্তির জ্ঞানকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ, তার জাতকে নয়।

প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো, রামানন্দই প্রথম হিন্দি ভাষায় ছন্দবদ্ধ কবিতা বা দোঁহার মধ্য দিয়ে ভক্তিবাদ প্রচার করেন। পরবর্তীকালে সেই প্রচারের ধারাটিকেই কবিরনানক আরোও সম্প্রসারিত করেছিলেন। রামানন্দের এরকম একটি উল্লেখযোগ্য দোঁহা ছিলো - "জাতি পাতি পুছে নহি কোই। হরি কো ভজে সো হরি কা হোই।।" অর্থাৎ কাউকে জাতপাত নিয়ে প্রশ্ন করা উচিৎ নয়। হরিকে যিনি ভজনা করেন, হরি তাকেই গ্রহন করেন।

কবিরের ওপর রামানন্দের প্রভাব শুধু যে ধর্ম - দর্শনের দিক থেকে পড়েছিলো, এমন নয়। রামানন্দের ভক্তিবাদ প্রচারের মাধ্যমও কবিরকে গভীর ভাবে প্রভাবিত করেছিলো। এ সম্পর্কে কবির নিজেই বলেছিলেন - "কাশিতে আমার জন্ম, আর রামানন্দ আমাকে জাগ্রত করেছিলেন।"

কবির তাঁর মতবাদের মধ্য দিয়ে বিশেষ কোন ধর্মের কথা বলেন নি। নির্দিষ্ট কোন ঈশ্বর বা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার কথাও বলেন নি। তিনি হিন্দু - মুসলমান সকল সম্প্রদায়ের সমন্বয় ও মিলনের কথা বলেছিলেন। তাই হিন্দু - মুসলিম সকল সম্প্রদায়ের মানুষই তাঁর মতবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহন করে। কবিরের শিষ্যদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন - ধর্মদাস, চিতোরের রানি ঝালি, ভাগোদাস, মুসলিম ফকির জাহানগাস্ত

কবির ধর্মপ্রচারে সংস্কৃতের বদলে হিন্দি ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। এ সম্পর্কে তিনি নিজেই একটি দোঁহাতে বলেছিলেন - "সংস্কৃত কূপজল কবীরা ভাষা বহতা নীর/ জব চাহো তবহি ডুবৌ শান্ত হোয় শরীর।।" অর্থাৎ হে কবীর সংস্কৃত তো কূপের জল। খুঁড়ে সে জল পাওয়ার আগেই সময় ফুরিয়ে যায়। সেজলে গা ভাসিয়ে সুখ নেই। হিন্দি হলো চলমান (চলিত/কথ্য) নদীর মতো। প্রবাহমান, নির্মল ও নির্দোষ। তাতে যত ইচ্ছা দেহ ভাসাও আর ডুবাও, - তাতেই সুখ।

(৪.) কবিরের ভক্তিবাদের মূল দর্শন ও মতবাদ  :- 

ভক্তিবাদী সন্ত কবিরের দোঁহা গুলি থেকে তাঁর ভক্তিবাদী দর্শন ও মতবাদের পরিচয় পাওয়া যায়। খুব সংক্ষেপে কবিরের ভক্তিবাদী দর্শন ও মতবাদকে আমরা নিন্মলিখিত ভাবে তুলে ধরতে পারি। 

(ক.) নির্গুন তত্ত্বের প্রচার :- 

সন্ত কবির ভক্তিবাদের নির্গুন তত্ত্বে বিশ্বাসী ছিলেন। যে ভক্তিবাদী সাধকগন ঈশ্বরের নিরাকার রূপে বিশ্বাসী ছিলেন এবং জাতপাত ও বর্নভেদের বিরোধী ছিলেন, তাদেরকেই সাধারনত নির্গুন সম্প্রদায় বলা হয়। নির্গুন তত্ত্ব অনুযায়ী কবির বিশ্বাস করতেন, ঈশ্বর নির্দিষ্ট কোন এক অবয়ব বা আকারে অবস্থান করেন না। তিনি থাকেন মানুষের হৃদয়ে। এপ্রসঙ্গে তিনি নিজেই একটি দোঁহাতে বলেছেন - 

"মো কো কাহা ঢুন্ঢে রে বান্দে/ম্যায় তো তেরে পাস/না মন্দির পে না মসজিদ পে/না কোয়ি অনন্ত নিবাস মে /য্যায়সে তিল মে তেল হোয়ে/য্যায়সে চকমক মে আগ/ তেরা সাই তুঝমে হ্যায়/তু জাগ সাকে তো জাগ।।" - এর অর্থ ঈশ্বর বা আল্লা কোন মন্দির বা মসজিদে থাকে না। কোন ধামেও থাকে না। তিলে যেমন তেল থাকে। চকমকিতে (পাথরে) যেমন আগুন থাকে, তেমনি মানুষের মধ্যেই ঈশ্বর বা আল্লা বসবাস করেন। কবির প্রশ্ন তুলেছিলেন -" খোদা যদি মসজিদে বাস করে তবে বাকি জগৎটা কার? "

(খ.) ঈশ্বর সম্পর্কে মত :- 

কবির ঈশ্বরকে কোন নির্দিষ্ট Frame বা স্টাকচারের মধ্যে আবদ্ধ রাখেন নি। তাঁর মতে, ঈশ্বর হলেন অদ্বিতীয়, যাঁকে কেবলমাত্র ভক্তির মাধ্যমেই অনুভব করা যেতে পারে। তিনি বলতেন, আল্লাহ ও রাম একই ঈশ্বরের আলাদা নাম। তাঁর মতে, রাম, রহিম, হজরত, কৃষ্ণ, করিম সকলেই এক এবং অদ্বিতীয়। তিনি তাঁর এক দোঁহাতে বলেন - "ঈশ্বর মসজিদে নেই, মন্দিরে নেই, কৈলাশে নেই, কাবাতেও নেই, আচারেও নেই, অনুষ্ঠানেও নেই, যোগেও নেই, ত্যাগেও নেই। ঈশ্বর আছেন মানুষের হৃদয়ে।" 

কবির তাই ঈশ্বরের মূর্তি পুজারও বিরোধিতা করেছিলেন। কবির তাঁর এক দোঁহাতে বলেন - "পাত্থর পুজৈ হরি মিলে তো মৈঁ পুঁজুঁ পাহাড়/তাতেঁ তো চক্কী ভালী, পীস খাএ সংসার।।" - এই দোঁহাতে কবির বলেন, ছোট্ট পাথরের মূর্তি পুজো করলে যদি পরমাত্মা লাভ করা যায়, তো আমি ছোটো মূর্তি কেন, একটা গোটা পাহাড়েরই পুজো করবো, যাতে শীঘ্রই মোক্ষ লাভ হয়। কিন্তু এই মূর্তি পুজা নিরর্থক। ঘরে পাথরের মূর্তি রাখার চেয়ে আটা পেশাই করা পাথরের জাঁতা রাখা অনেক ভালো, তাতে গম পেশাই করে এই সংসার বা জগতের ক্ষুধা নিবারন করা যায়।

কবির তাঁর ধর্মমতে, ঈশ্বরের অবতারবাদেরও বিরোধিতা করেন। যদিও তিনি বহুবার ঈশ্বরকে রাম নামেও অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু তাঁর রাম কখনই রামায়নের অবতারবাদের রাম ছিলো না। আসলে ঈশ্বর সম্পর্কে কবিরের স্পষ্ট মত ছিলো, হিন্দু ঈশ্বরের নাম উচ্চারণ করা হোক বা মুসলিম ঈশ্বরের নাম, ঈশ্বর একজনই। তিনি কোন এক নামে, কোন এক স্থানে সীমাবদ্ধ নন। তিনি সর্বব্যাপী। তাই কবির ঈশ্বরকে কখনো খোদা বলেছেন, কখনো রাম বলেছেন, কখনো কৃষ্ণ বলেছেন, আবার কখনো আল্লাহ বলেছিলেন। 

কবিরের মতে, অন্ধ মানুষ জাত পাত, ধর্ম, সম্প্রদায় প্রভৃতি নানা সংকীর্ণ দৃষ্টিতে আবদ্ধ বলে ঈশ্বরকে খুঁজে পান না। কবির নিজেই সম্পর্কে একটি দোঁহাতে বলেছিলেন - "জগত জানায়ো জিহি সাকাল সো জাগ জানিয়ো নাহি /জিয়ো আঁখি সব দেখিয়ে আঁখি না দেখি জাহি।" অর্থাৎ - 

"এই বিশ্বের সকল কৃপার আধার যিনি, সেই 

জগত চেনে না তাকে, 

যেমন আমরা চোখ দিয়ে সব দেখি কিন্তু নিজের

চোখকে নিজেই পাইনা দেখতে।।" 


(গ.) ধর্মীয় আচারবাদের বিরোধিতা :- 

কবির তাঁর ধর্মমতে সকল ধর্মীয় আচারবাদের বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, নামাজ, বলিদান, তীর্থযাত্রা, পুন্যস্নান, শাস্ত্রপাঠ, প্রতিমাপুজা, উপবাস - সবকিছুই অর্থহীন আচার অনুষ্ঠান। ঈশ্বর কখনো এসব করতে বলেন নি। আর এসবের মধ্য দিয়ে কখনও ঈশ্বরকে পাওয়াও যায় না। 

কবিরের মতে, ঈশ্বরকে পেতে গেলে হৃদয়কে করতে হবে নির্মল, মনকে করতে হবে বিনয়ী এবং চরিত্রকে করতে হবে সৎ। তিনি বারংবার বলেছিলেন - "সত্যের অনুগামী হও, সহজ হও এবং নিজের মধ্যেই সত্যকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করো।" 

(ঘ.) গুরুবাদে গুরুত্ব :- 

অন্যান্য ভক্তিবাদী সন্তদের মতো কবিরও গুরুবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর মতে, একজন যোগ্য গুরুই ব্যক্তিকে ঈশ্বরের দোরগড়ায় পৌঁছে দিতে পারেন। তাঁর মতে, যারা গুরুর হাত ধরবে না তারা এই জীবনের ভীষন স্রোতের তোরে ভেসে যাবে। একজন গুরুই ভক্তকে প্রকৃত পথনির্দেশ করতে পারেন। আত্মশৃঙ্খলা হচ্ছে সেই পথনির্দেশ। এ সম্পর্কে একটি দোঁহাতে তিনি বলেন - 

"গুরু গোবিন্দ দো খরে /কাকো লাগে পায়ে/ বলিহারি গুরু আপনো/গোবিন্দ সঙ্গ মিলায়ে।।" এর অর্থ গুরু এবং গোবিন্দ (ঈশ্বর) - দুজনেই পাশাপাশি দাড়িয়ে আছেন। এখন আমি কার পায়ে হাত দিয়ে প্রনাম করবো? এরূপ অবস্থায় গুরুর চরন স্পর্শ করাই শ্রেয়, কেননা গুরুর জন্যই গোবিন্দকে (ঈশ্বরকে) লাভ করা গিয়েছে। কবিরের মতে, গুরুই একমাত্র ব্যক্তিকে আলোর পথে নিয়ে যেতে পারেন। 

(ঙ.) ঈশ্বর লাভের সহজ পন্থা :- 

কবির ঈশ্বর লাভের জন্য কোন মন্দির, মসজিদে প্রার্থনা বা বিশেষ কোন ধর্মীয় আচারবাদের কথা কখনো বলেন নি। তিনি ধর্মের জন্য নিজেও কখনো সংসার ত্যাগ করেন নি। তাঁর শিষ্যদেরও সংসার ত্যাগ বা জঙ্গলে আশ্রয় নেওয়ার কথা বলেন নি। সংসারের মধ্য থেকেই কামনা বাসনার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে বলেছিলেন সারা জীবন। তিনি তাঁর এক দোঁহাতে বলেন - "এই দেহক্ষেত্রে বিপুল যুদ্ধ চলছে, /প্রবৃত্তি, ক্রোধ, অহংকার ও লোভের বিরুদ্ধে, /সত্য ও পবিত্রতার রাজ্যে এই যুদ্ধ চলছে, / এই যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য প্রয়োজন ঈশ্বরের নামের তরবারি।।" 

কবির বলেন, কৃচ্ছসাধন, উপবাস, ভিক্ষা, দান এসবের কোন মূল্য নেই, যদি না তার সঙ্গে ভজনের কোন সম্পর্ক থাকে। 

(চ.) হিন্দু - মুসলিম সমন্বয়বাদে গুরুত্ব :- 

কবির ধর্ম ও ঈশ্বরের নামে মানুষে মানুষে ভাগাভাগীর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলতেন," হিন্দু ও মুসলিম আসলে একই মাটি দিয়ে গড়া দুটি পাত্র। "কবির নিজেও ঈশ্বরের নামোচ্চারে যেমন কোন বিভেদ করেন নি, তেমনি ঈশ্বরকে কেন্দ্র করে হিন্দু মুসলিম বিভেদকেও সমর্থন করেন নি। সমকালীন ধর্ম নিয়ে হিন্দু - মুসলিম লড়াইকে তিনি তীব্র কটাক্ষ করে একটি দোঁহাতে বলেন - 

" হিন্দু কাহে মুঝে রাম পিয়ারা 

তুকা কাহে রহমানা

আপোস মে দো লড়ে, মুয়ে 

মরম না কোয়ি জানা।।" 

এর অর্থ হিন্দু বলে রাম আমার আরাধ্য, মুসলমান বলে রহমানের ইবাদত করে তারা। এই দুজন পরস্পরে ধর্ম নিয়ে লড়াই করতে করতে আসল সত্য ও ঈশ্বরের প্রকৃত স্বরূপটাই এরা উপলব্ধি করতে পারে না। কবির হিন্দু - মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের কাছেই আহ্বান জানান, তারা যেন রক্তপাত থেকে বিরত থাকেন এবং উভয়ে পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। 

কবির হিন্দু - মুসলিম দুই ধর্মবিশ্বাসের সাদৃশ্যগুলিকে তাঁর মতবাদে তুলে ধরেন এবং দুই ধর্মেরই বাহ্যিক আচার আচরনকে কঠোর ভাবে আক্রমণ করেন। তিনি একদিকে হিন্দুদের বর্নভেদ, জাতিভেদ  চতুরাশ্রম ও পুজাপদ্ধতিকে যেমন আক্রমণ করেন, তেমনি মুসলিমদের ধর্মাচরনের অমানবিক গোঁড়ামিকেও তিনি কঠোরভাবে আক্রমণ করেন।

(৫.) কবিরের শেষ জীবন :- 

কবিরের উদারনৈতিক মতবাদ ও শিক্ষা তৎকালীন রক্ষনশীল হিন্দু এবং মুসলিমদের একাংশ মেনে নিতে পারেন নি। খুব স্বাভাবিক ভাবেই কাশীর রক্ষনশীল কাজি, ব্রাহ্মন এবং বনিকেরা কবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং সুলতান সিকান্দর লোদির কাছে কবিরের নামে নানা মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। জনশ্রুতি অনুযায়ী সুলতানের মদতে কবিরকে গঙ্গার জলে ডুবিয়ে মারা সহ বহুবিধ কৌশলে হত্যার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু প্রতিবারেই কোন এক অলৌকিক ক্রিয়ায় তিনি বেঁচে যান। শেষপর্যন্ত সুলতান করজোড়ে কবিরের কাছে ক্ষমাভিক্ষা করেন এবং তাঁর অনুগামী হন।

শোনা যায়, কবির প্রায় ১২০ বছর বেঁচেছিলেন। কবির যখন বুঝতে পারেন তাঁর মৃত্যু আসন্ন, তখন তিনি বারানসী পরিত্যাগ করে মঘার নামে এক স্থানে চলে আসেন। মঘার বা মগহর বর্তমান উত্তর প্রদেশের বস্তি জেলার গোরক্ষপুরের নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিলো। কবির আজীবন কুসংস্কারের বিরোধী ছিলেন। সেসময় প্রচলিত বিশ্বাস ছিলো যে বারানসীতে মৃত্যু ঘটলে স্বর্গ লাভ হয়, আর মঘারে মৃত্যু হলে গাধা রূপে পুনর্জন্ম হয়। লোকমুখে প্রচলিত এই কুসংস্কার যে কতটা ঠুনকো তা প্রতিষ্ঠা করার জন্যই কবির তাঁর অন্তিমকাল মঘারে অতিবাহিত করেন।

কবির আজীবন হিন্দু - মুসলিম সমন্বয়বাদের কথা বলেছিলেন, তাদের মিলনের কথা বলেছিলেন। কিন্তু কবিরের মৃত্যুর পর তাঁর মৃতদেহের সৎকার পদ্ধতি নিয়ে কবিরের হিন্দু, মুসলমান শিষ্যদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই সময় দুই সম্প্রদায়ই দাবি করেন কবির তাদের জাতির লোক। এইসময় হিন্দুরা চিতার মাধ্যমে, এবং মুসলিমরা কবরের মাধ্যমে দেহ সৎকারের জন্য বিবাদে লিপ্ত হয়। 

কবিরের মৃতদেহ নিয়ে হিন্দু - মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের বিরোধ থেকে এটা বোঝা যায়, কবিরের শিক্ষা এতটাই উদার ও নিরপেক্ষ ছিলো যে হিন্দু, মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের লোকই কবিরকে নিজেদের লোক বলে মনে করতেন। এর পাশাপাশি এটাও বোঝা যায়, উভয় সম্প্রদায়ই কবিরকে শ্রদ্ধা, ভক্তি করলেও, কোন সম্প্রদায়ই কবিরের বানীর মর্ম উপলব্ধি করতে পারেন নি। কথিত আছে দীর্ঘ বিরোধের পর কবিরের শিষ্যরা যখন মৃত কবিরের দেহ থেকে চাদর তুলে ফেলেন, তখন তারা দেখেন সেখানে কবির নেই, আছে অজস্র ফুলের স্তুপ।

(৬.) কবিরপন্থী সম্প্রদায় :- 

কবির নিজে কোন ধর্মীয় সম্প্রদায় গঠন না করলেও, তাঁর মৃত্যুর পর কবিরের অনুগামী সম্প্রদায় "কবিরপন্থী" নামে পরিচিতি লাভ করেন। কবিরপন্থীরা পৌত্তলিকতা বর্জন করেছিলেন। গুরুর ভজনাই ছিলো তাদের একমাত্র আরাধনা পদ্ধতি। 

কবিরের মৃত্যুর পর তাঁর অনুগামীরা কবিরের পুত্র কামালকে অনুরোধ করেন "কবির" নামে একটি সম্প্রদায় খোলার জন্য। কিন্তু কামাল সেই প্রস্তাব উপেক্ষা করে জানিয়ে দেন, "আমার পিতা আজীবন সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কাজ করে গেছেন। তাঁর পুত্র হয়ে আমি কিভাবে তাঁর আদর্শকে হত্যা করবো।" কিন্ত তা সত্ত্বেও, (ক.) কবিরের মুসলমান শিষ্যরা মঘর নামে স্থানে কবিরের নামে একটি পৃথক সম্প্রদায় ও মঠ প্রতিষ্ঠা করে। অন্যদিকে (খ.) কবিরের হিন্দু শিষ্যরা বারানসীতে সুরত গোপালের নেতৃত্বে একটি পৃথক সম্প্রদায় গঠন করেন। এরা" বীজক" নামক গ্রন্থে কবিরের বানী গুলিকে সংকলিত করেন। বারানসীতে কবীর চৌবায় প্রতি বছর এখনও তাঁর অনুগামীরা মিলিত হন।। 

(৭.) কবিরের দোঁহার সংকলন :- 

কবির হিন্দু ও মুসলিম উভয়ের কাছে তাঁর ধর্মমত প্রচার করার জন্য সহজ সরল কথ্য হিন্দি ভাষায় যে ধর্মীয় উপদেশমূলক গীত ও কবিতা গুলি রচনা করেন, সেগুলি "দোঁহা" নামে পরিচিত ছিলো। কবিরের দোঁহাগুলি সমগ্র উত্তর ভারত জুড়ে জ্ঞান, ধর্ম ও নৈতিকতা প্রচার করেছিলো। তাঁর প্রভাব উত্তর ভারত সহ পাঞ্জাব, গুজরাট এবং বাংলা পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছিলো। 

কবিরের দোঁহা গুলি এতটাই মনোগ্রাহী ছিলো যে এগুলি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের মুখে মুখে কাশী, দিল্লি, পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট, বিহার এমনকি বাংলা ও ঊড়িষ্যাতেও ছড়িয়ে পড়েছিলো।ড. উদয় নারায়ন তেওয়ারীর মতে, কবিরের দোঁহা গুলি পাঞ্জাব থেকে বিহার পর্যন্ত অসম্ভব জনপ্রিয়তার কারনে ভোজপুরী, ব্রজবুলি, খরিকেলি ও দিল্লির প্রচলিত হিন্দি ভাষা গুলিতে অনূদিত হয়েছিলো। 

কবির মুখে মুখে তাঁর দোঁহা গুলি রচনা ও প্রচার করতেন। কবিরের মৃত্যুর পর সপ্তদশ শতাব্দীতে তাঁর শিষ্যরা "বিজক" নামক একটি গ্রন্থে কবিরের দোঁহা গুলিকে সংকলন করেন। এছাড়া, শিখদের ধর্মগ্রন্থ "গুরু গ্রন্থসাহিব" এ কবিরের প্রায় ২০০ টির বেশি পদ এবং ২৫০ টি শ্লোক বা দোঁহা লিপিবদ্ধ করা হয়েছিলো। এগুলি ছাড়াও, কবিরপন্থ সম্প্রদায়ের আরেকটি পবিত্র গ্রন্থ "অনুরাগ সাগর" এবং বরীর পরছাই, পঞ্চবানী প্রভৃতি গ্রন্থাবলীতেও কবিরের দোঁহা গুলি সংকলিত হয়। 

(৮.) ভক্তিবাদী আন্দোলনে কবিরের অবদান ও তাৎপর্য :- 

মধ্যযুগের ভক্তিবাদী আন্দোলনে কবিরের অবদান ও তাৎপর্য ছিলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

প্রথমত, মধ্যযুগে কোরান আর বেদ, নিরাকার আর সাকারের উপাসনা নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ যখন নানা দ্বিধা দ্বন্দ্বে জর্জরিত ও সন্দিহান ছিলেন, তখন কবিরই সর্বপ্রথম তাঁর মতবাদের মধ্য দিয়ে জাতি, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের বিভাজন মুছে ফেলে একটি ঐক্যবদ্ধ সমাজ তৈরি করে সমাজে একটি স্থিতিশীল আদর্শবাদ তৈরির পথ দেখিয়ে যান। হিন্দু - মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি বড়ো অংশকে কবির তাঁর আদর্শবাদে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সমাজের নানা পার্থক্য ও বহুত্ববাদের মধ্যেও যে একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ ভাবে থাকা সম্ভব, এই সরল সত্যকে কবির তাঁর ভক্তিবাদী মতাদর্শের মধ্য দিয়ে তুলে ধরেন। এখানেই ছিলো তাঁর মতাদর্শের সবচেয়ে বড়ো সামাজিক তাৎপর্য

দ্বিতীয়ত, মধ্যযুগের ভক্তিবাদী আন্দোলনে কবিরই প্রথম সন্ত ছিলেন, যিনি হিন্দু - মুসলিম সমন্বয়বাদের ওপর প্রথম গুরুত্ব দেন। ভিন্ন মেরুর দুই ধর্মকে কাছাকাছি আনার উদ্যোগ তিনিই প্রথম গ্রহন করেন। ধর্মীয় ঘৃনা আর হানাহানিতে দীর্ণ মধ্যযুগে কবির ধর্মনিরপেক্ষতার এক মহান আদর্শ স্থাপন করতে পেরেছিলেন। 

তৃতীয়ত, কবির ছিলেন মধ্যযুগে উত্তর ভারতের সবথেকে শক্তিশালী ভক্তিবাদের প্রচারক। তাঁর মতবাদ ও দোঁহা শুধু উত্তর ভারতকেই নয়, পশ্চিম ও পূর্ব ভারতকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিলো। অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তিনি ভারতের কেন্দ্রস্থল থেকে এমন একটি ধর্ম প্রচার করতে এগিয়ে এসেছিলেন, যা হিন্দু ও মুসলিম - এই দুই ভিন্ন সম্প্রদায়ের সমন্বয়সাধন করে এবং এক মধ্য পথের নির্মান করে। বলা বাহুল্য, কবিরের মৃত্যুর পর তাঁর হিন্দু - মুসলিম শিষ্যরা ভাগ হয়ে গেলেও, তাঁরা কবিরের আদর্শকে ভাগ করতে পারেন নি। কবির তাঁর ভক্তিবাদের মধ্য দিয়ে হিন্দু - মুসলিম ঐক্যবোধ, সহাবস্থান, মানবতাবাদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতার যে মহান আদর্শ তুলে ধরেন, তার মধ্যে কোন ভুল ছিলো না। হিন্দু - মুসলিম দীর্ঘ লড়াইয়ের পর স্বাধীন ভারত এইকারনেই তাঁর প্রদর্শিত মধ্যপন্থী পথকেই বেছে নিয়েছিলো। 

চতুর্থত, কবির তাঁর ভক্তিবাদী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সমস্ত সামাজিক ও ধর্মীয় ভন্ডামি এবং অনাচারকে আক্রমণ করেন। তিনি হিন্দু এবং ইসলামের ধর্মীয় নেতাদের আক্রমণ করেন। কারন এই দুই সম্প্রদায়ের নেতারা ধর্মের মূল সত্যের খোঁজ না করেই যে যার মতো নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য মানুষের দুর্বলতাকে ব্যবহার করে যাচ্ছিলেন। কবির সমাজের জাতপাত এবং অসাম্যকে তীব্র ভাবে আক্রমণ করেন। রাষ্ট্রকে তিনি অসাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত সমাজের রক্ষক বলেই মনে করতেন। এজন্য তিনি তাঁর অনুগামীদের রাষ্ট্র ও রাজসভা থেকে সর্বদা দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আসলে কবির বিশুদ্ধ মন আর যুক্তিবাদ দিয়ে একজন বিপ্লবীর মতোই সমাজ, ধর্ম, ঈশ্বর সবকিছুকেই দেখেছিলেন এবং বিচার বিশ্লেষন করেছিলেন। 

মনে রাখতে হবে, কবির কিন্তু একজন বিপ্লবী ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন ভক্তিবাদী সাধক এবং একটি বিশেষ যুগের প্রতিনিধি। তিনি হিন্দু ও মুসলিম - দুই ধর্মের কোন পরিবর্তন ঘটাতে পারেন নি। জাতিভেদ বা মানুষে মানুষে বিভেদকেও পুরোপুরি দূর করতে পারেন নি। কিন্তু তাকে অনেকখানি হ্রাস করতে পেরেছিলেন। পৃথিবীর ইতিহাসে কোন সাধকই যা কিছু খারাপ এবং কদর্যপূর্ন সে সব পুরোপুরি দূর করতে পারেন নি। কবিরও পারেন নি। আসলে সাধকরা আসেন, মানুষকে পথ দেখানোর জন্য। মধ্যযুগে ধর্ম আর মানুষে হানাহানির কালে কবিরও পথ দেখানোর জন্যই আবির্ভূত হয়েছিলেন। 

একঝলকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য :- 

  1. ভক্তিবাদী সাধক রামানন্দের প্রধান ও সর্বশ্রেষ্ঠ শিষ্য ছিলেন - কবির।
  2. আরবি ভাষায় কবির কথার অর্থ - মহান। 
  3. কবিরের জন্ম হয় - ১৩৯৮ খ্রিঃ /মতান্তরে ১৪৪০ খ্রিঃ।
  4. কবির ছিলেন - সিকান্দর লোদির সমসাময়িক।
  5. কবিরের জন্ম ও কর্মস্থল দুইই ছিলো - বেনারস/ বারানসি।
  6. কবিরের জন্ম হয় - কাশীর কাছে লাহরতালাব (বর্তমান বারানসি) নামক স্থানে। 
  7. কবিরের পালক পিতা - মাতার নাম ছিলো যথাক্রমে - নীরু ও নীমা।
  8. কবিরের পুত্র ও কন্যার নাম ছিলো যথাক্রমে - কামাল ও কামালি।
  9. কবিরের স্ত্রী নাম ছিলো - লোইনাম্নী।
  10. কবিরের অনুগামীদের বলা হয় - কবিরপন্থী।
  11. কবির হিন্দি ভাষায় দুই পঙ্‌ক্তির যে কবিতা গুলির মধ্য দিয়ে তাঁর ধর্ম প্রচার করতেন, সেগুলিকে বলা হতো - দোঁহা।
  12. কবিরের দোঁহা গুলির সংকলিত গ্রন্থের নাম হলো - বীজক।
  13. কবিরপন্থীদের ধর্মগ্রন্থের নাম হলো - বীজক।
  14. কবিরের ২০০ টির অধিক পদ এবং ২৫০ টির মতো দোঁহা সংকলিত হয়েছিলো - শিখদের ধর্মগ্রন্থ গ্রন্থসাহিবে।
  15. কবিরের দোঁহার কয়েকটি সংকলিত গ্রন্থের নাম হলো - বীজক, বরীর পরছাই, পঞ্চবানী, অনুরাগ সাগর।
  16. মধ্যযুগে হিন্দু - মুসলিম সমন্বয়বাদের কথা সর্বপ্রথম ভক্তিবাদের মধ্য দিয়ে প্রচার করেন - কবির। 
  17. কবিরের মৃত্যু হয় - উত্তর প্রদেশের গোরক্ষপুর জেলার নিকটবর্তী মগহর/মঘার নামক স্থানে।
  18. কবির ছিলেন - নির্গুন তত্ত্বের একজন ধর্মপ্রচারক।
  19. কবিরের শিষ্যদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন - ধর্মদাস, চিতোরের রানি ঝালি, ভাগোদাস, সুরত গোপাল, এবং মুসলিম ফকির জাহানগাস্ত। 
  20. বাংলায় কবিরের দোঁহা গুলি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post